কেউ গালিগালাজ করলে চুপ থাকা: হযরত আবু বকর (রাঃ) এর একটি ঘটনা

লেখক: আতিয়া ফাইরুজ

নবীদের পর সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে যার নাম অগ্রগণ্য তিনি হলেন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)। তিনি ইসলামের ত্রাণকর্তা নামে পরিচিত। আজকের নিবন্ধে আমরা কেউ গালিগালাজ করলে চুপ থাকা নিয়ে একটি ঘটনা জানব।

ঘটনার বিবরণঃ

হযরত আবু হােরায়রা ( রাঃ ) বলেন , এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর ( রাঃ ) কে গালমন্দ করছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসেছিলেন। হযরত আবু বকর ( রাঃ ) চুপ করে ছিলেন এবং তার চুপ করে থাকা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে খুবই ভাল লেগেছিল এবং তিনি মুচকি হাসছিলেন। উক্ত ব্যক্তি যখন অনেক বেশী গালমন্দ করিতে লাগল তখন হযরত আবু বকর ( রাঃ ) তার কোন কথার উত্তর দিলেন।

 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে অসন্তুষ্ট হয়ে সেখান থেকে উঠে রওয়ানা দিলেন। হযরত আবু বকর ( রাঃ ) ও পিছনে পিছনে আসলেন এবং বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে আমাকে গালমন্দ করছিল। আপনি বসিয়াছিলেন । যখন আমি তার কোন কথার উত্তর দিলাম তখন আপনি অসন্তুষ্ট হইলেন এবং উঠে আসিলেন”।

 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , “তুমি যখন চুপ ছিলে, তখন তোমার সাথে একজন ফেরেশতা ছিলেন। ফেরেশতাটি তােমার পক্ষ হতে জবাব দিচ্ছিলেন ।যখন তুমি তার কোন কথার জবাব দিলে তখন মাঝখানে শয়তান এসে পড়লো ( এবং ফেরেশতা চলে গেলেন )। আর আমি শয়তানের সাথে বসতে পারি না” । অতঃপর তিনি বললেন , “হে আবু বকর ! তিনটি বিষয় অকাট্য সত্য।

>>যে কোন বান্দার উপর জুলুম করা হয় আর সে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সেই জুলুম ( এর প্রতিশােধ নেয়া ) হতে এড়িয়া যায় অর্থাৎ বিরত থাকে , আল্লাহ তায়ালা তাকে জোরদার সাহায্য করবেন।

>>যে ব্যক্তি মিল স্থাপনের উদ্দেশ্যে হাদিয়া দেওয়ার দরজা খুলবে , আল্লাহ তায়ালা অতিমাত্রায় তার সম্পদ বৃদ্ধি করে দিবেন।

>>আর যে ব্যক্তি মাল বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে চাওয়ার দরজা খুলবে আল্লাহ তায়ালা তাহার সম্পদ কমিয়ে দিবেন”।

আবু বকর (রাঃ) কে জনৈক ব্যক্তি গালিগালাজ করলে তিনি বলেছিলেন, “যদি তুমি সত্যবাদী হও ও আমি অপরাধী হই, তাহলে আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করেন”।ইসলামে যেকোনো কারণে অন্যকে গালি দেয়া হারাম। হাসি-কৌতুক বা ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয় এবং কাউকে গালি দেয়ার অনুমতি ইসলামে নেই। সুতরাং এই ঘটনা থেকে শিক্ষনীয় বিষয় এটাই যে কেউ গালিগালাজ করলে চুপ থাকা উচিত।

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *