মুসলিম সাগর পথের নাবিক, অভিযাত্রিক ও আবিস্কারক পর্ব ৩ : মুসলিম নাবিক মানসা আবু বকর কলম্বাসের ১৮১ বছর আগে আমেরিকায় আগমন করেন

আবু বকরে কলম্বাসের ১৮১ বছর আগে আমেরিকায় আগমন করেন।
কে ছিলেন এই মনসা আবু বকর আর মনসা মুসা যাদের থেকে Walt Disney র লায়ন কিং এবং ব্ল্যাক প্যান্থার সিনেমার চরিত্র অনুপ্রাণিত হয়ে করা। মালি সম্রাজ্যের এই দুই মানসা , বিশেষ করে আবু বকর আর তার ২০০০ জাহাজ নিয়ে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আমেরিকা অভিযানের ইতিহাস শুনবো প্রথম অংশে , আর দ্বিতীয় অংশে শুনবো তার নৌবহর আমেরিকা যেতে পেরেছিলো কিনা এবং ইউরোপীয়ানদের আগমনের কয়েকশো বছর আগে থেকে আমেরিকার ভূখণ্ডে মুসলমানদের উপস্থিতির ইতিহাস উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করবো।
লেখক : মোহাম্মদ জুলফিকার রিজন

১২৩৩ সালের মধ্যে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে মালি সম্রাজ্য স্থাপিত হয়েছে এবং কয়েক দশকের মধ্যেই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী সম্রাজ্যে পরিণত হয়। মালি সম্রাজ্যের শাসককে বলা হতো মানসা , এই ম্যানডিঙি শব্দের অর্থ হচ্ছে রাজা বা সুলতান। এই মালি সম্রাজ্যের ৯ম সুলতান হলো : মানসা আবু বকর যিনি ১৩১০ সালে সিংহাসনে বসেন।
মানসা আবু বকর (২য় ) ছিলেন প্রচন্ড ভ্রমণ প্রেমিক এবং শান্তি প্রিয় শাসক হিসেবে তার সুনাম ছিল সমগ্র আফ্রিকায় । মানসা আবু বকর এর যেকোনো কিছু জানার প্রতি অনেক ঝোঁক ছিল।

তিনি আফ্রিকার উপকূল থেকে পশ্চিম দিকে আটলান্টিক সাগর পাড় হয়ে নতুন ভূখণ্ড আবিষ্কার করতে চেয়েছিলেন, মালি সম্রাজ্যকে আরো বড়ো এবং সমৃদ্ধ করার জন্য। মানসা আবু বকর এমন এক সুলতান ছিলেন , যে সব সময় তার প্রজাদের কথা ভাবতো , আর সম্রাজ্যকে আরো শক্তিশালী করার কথা সব সময় চিন্তা করতেন। তার দূরদর্শী মনে আগে থেকেই বুঝতে পারতেন , সম্রাজ্যকে বাড়াতে না থাকলে একসময় টিকে থাকবে না।
তার নির্দেশে সাগরের উপকুলে এক বিশাল নৌবহর গড়ে তোলা হয়, প্রতিটি কাঠের জাহাজ এমন ভাবে তৈরী করা হয় যাতে, এগুলি দিয়ে মহাসাগর পারহও যায়, এবং প্রয়োজন হলে এক বছর পর্যন্ত জাহাজেই অবস্থান করা যায়।


এই নৌবহরের এডমিরালকে নির্দেশ দেন কোনো ক্রমেই যাতে আটলান্টিকের ওপর পাশের ভূখণ্ডে না পৌঁছা পর্যন্ত যাত্রা স্থগিত না করে। শুধুমাত্র খাবার আর পানির সংকট দেখা দিলে আর আর মধ্যে ভূখণ্ডের দেখা না পেলে ফিরে আসার নির্দেশ দেন।

২০০ জাহাজের বিশাল নৌবহর নিয়ে সাগরের অভিযানে বের হয় নৌবহর। মানসা আবু বকর তখন ও মালি সম্রাজ্যের সুলতান, তাই তিনি এই অভিযানে যেতে পারেননি।
শুধু একটা জাহাজ কিছুদিন পর উপকূলে ফিরে আসে। জাহাজের ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, বাকি সব জাহাজ থেকে তার জাহাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল ।
তিনি আরো বলেছিলেন , তার সামনে ঘন কুয়াশা ছিল, সামনে থেকে খরস্রোতা নদীর মতো স্রোত জাহাজের দিকে ধেয়ে আসছিলো। বাকি সব জাহাজ ফিরে না আসায় , তিনি তার জাহাজ ঘুরিয়ে আফ্রিকার দিকে ফিরে আসেন।
এই ঘটনার পর মানসা আবু বকর আরো বড় এক নৌ বহর প্রস্তুত করেন, এইবার নৌবহরের এডমিরাল মানসা আবু বকর নিজেই। চাদ হ্রদে ঐসময়ের সবচেয়ে ভালো ইঞ্জিনেয়ারদের দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য জাহাজ বানাতে বলেন।

মানসা আবু বকর নাবিক , সৈনিক, লেখক , কবি নিয়ে নৌবহরের জন্য প্রস্তুত হন, এবং সবার জন্য দুই বছরের খাবার দাবার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছু জাহাজে নেন।
তার কথা মতো হাজার হাজার নাবিক, জ্যোতির্বিদ , সৈনিক, সম্রাজ্যের যত বড় বড় লেখক, দার্শনিক নিয়ে সাগর অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন।
১০০০ টি জাহাজ আবু বকর আর অন্নান্ন নাবিক, কবি , সাহিত্যিক, ইঞ্জিনিয়ার , দার্শনিক এর জন্য । আরো ১০০০ টি জাহাজ ভর্তি অতিরিক্ত রসদ , খাদ্য, পানি, ফল, ফুল গাছের চারা , কিছু পোষা প্রাণী নেন।

আটলান্টিকের পশ্চিমে যে ভূখণ্ড আছে, এটা ওই সময় আফ্রিকার সবাই জানতো। বিচ্ছিন্ন নাবিক, অভিযাত্রিক এর আগেও পশ্চিমে বিশাল এক ভূখণ্ডে গিয়ে ঘুরে এসেছে এমন কাহিনী কয়েকশো বছর ধরে সবাই জানতো।
মানসা আবু বকর ১৩১১ সালে ওয়েস্ট আফ্রিকার উপকূল থেকে তার আটলান্টিক অভিযান শুরু করেন। তিনি আর কখনো ফিরে আসেননি।

মানসা আবু বকর নৌবহর নিয়ে আটলান্টিকে পাড়ি জমানোর পর, মানসা মুসা সুলতান হন মালি সম্রাজ্যের। মানসা মুসা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী রাজা হয়েছিলেন ওই সময় , কারণ তার মালি সম্রাজ্য সোনা উত্তোলন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতো । কিছু কিছু আধুনিক অর্থনীতিবিদ মানসা মুসার সম্পদের হিসাব করেন , এখনকার হিসেবে তার ৫ ট্রিলিয়ন US ডলার সমপরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা ছিল।

মানসা মুসা নিজেও অনেকটা ভ্রমণ পিপাসু ছিলেন , যেহেতু তার পূর্বসূরি সাগরে পশ্চিম দিকে গিয়েছিলো , মানসা মূসা পূর্বদিকে অর্থাৎ সাহারা মরুভুমি পার হয়ে মিশর হয়ে মক্কায় হজ করতে বের হয়েছিলেন।

মানসা মুসার দান করার মতো বড় মন ছিল , ১২ হাজার জনর এক বিশাল কাফেলা নিয়ে বের হন, তার এই কাফেলায় কয়েকশো উটের পিঠে সোনা দানা , দামি তৈজসপত্র নিয়ে ৪৫০০ মাইলের পর পাড়ি দিয়ে হজ করেন ! পথে যে শহর দিয়েই যেতেন সেখানেই সেখানেই দান করতেন ।

তিনি কি পরিমান দান করেছেন, তার একটা উদাহরণ দেই , মানসা মুসা মিশরে দান করে চলে যাওয়ার পর মিশরে এমন পরিমান স্বর্ণ মুদ্রার উপস্থিতি ছিল যে , পরবর্তী ১২ বছর মিসরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল। ওই যাত্রায় মানসা মূসা আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন US ডলার সমমূল্যের স্বর্ণ মুদ্রা দান করেছিলেন। ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক মানসা মুসার জন্য এটা কিছুই না।

হজ করার জন্য মানসা মুসা যখন মক্কায় গিয়েছিলেন , সেখানে সিরিয়ার ঐতিহাসিকবিদ এবং বিখ্যাত স্কলার শিহাব-আল-উমারির দেখা হয় । শিহাব আল উমারি তার বইতে মানসা আবু বকর (২) সম্পর্কে মানসা মুসার বক্তব্য সরাসরি লিখেন
আমার আগের যে উত্তসুরী যে ক্ষমতায় ছিল, সে বিশ্বাস করতো না যে আটলান্টিক পার হওয়া অসম্ভব, তার ইচ্ছে শক্তিতে দৃঢ়তা ছিল। তিনি দুই হাজার জাহাজ ভর্তি নাবিক, রসদ, সোনা, রুপা, পানি, খাবার দাবার নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন। … তিনি আর কখনো ফিরে আসেনি।
মানসা আবু বকর একজন অসাধারণ সুলতান ছিলেন। তিনি ওই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী রাজা ছিলেন এবং সাগর অভিযানে যাওয়ার জন্য সব ধোন দৌলত আর ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নৌ বহরে নিয়ে বের হয়েছিলেন।

মানসা আবু বকর কি আটলান্টিক পার হয়ে আমেরিকা যেতে পেরেছিলেন ?
মানসা আবু বকরের সুবিশাল নৌ বহর নিয়ে আটলান্টিক পার হওয়ার অভিযানে যাওয়ার ১৮১ বছর পর ক্রিস্টোফার কলোম্বার নামের ইতালিয়ান অভিযাত্রিক , যে কিনা স্প্যানিশ রাজ্যের অর্থায়নে স্পেন থেকে আটলান্টিক পারে হয়ে আমেরিকা গিয়েছিলেন।

কলম্বাসের জার্নালে পাওয়া যায় :
আমেরিকার অধিবাসীদের কাছ থেকে কলম্বাস জানতে পারেন , দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে কালো রঙের মানুষ নৌকায় করে এসেছে। তারা সোনার তৈরী ধনুকের মাথা দিয়ে বিনিময় করতো আদিবাসীদের সাথে। এই ধরণের ধনুকের মাথাকে অধিবাসীরা বলতো গুয়ানিন।

ক্রিস্টোফার কলম্বাস নিজে আমেরিকায় এই আফ্রিকান লোকজনের উপুস্থিতি এবং আদিবাসীদের শুনা কথা নিজে পরোক্ষ করে দেখেন।
ক্রিস্টোফার কলম্বাস স্পেনের রাজদরবারে এরকম ধনুকের মাথা আনেন ৩২ টি , তার মধ্যে ১৮ টি সোনার, ৬ টি রুপার আর ৮তা তামার তৈরি।
পরবর্তীতে গবেষণা করে দেখা যায় যে, ঐসব ধনুকের মাথায় সোনার, রুপার অনুপাত, এবং তামার প্রলেপ, পশ্চিম আফ্রিকায় যেরকম পাওয়া যায় হুবহু তার মতো। আর আমেরিকার অধিবাসীরা যে সোনার ধনুকের মাথাকে গুয়ানিন নামে ডাকতো, এই শব্দটা মানডিঙি , মালি সম্রাজ্যের মাতৃভাষা। গুয়ানিন শব্দের অর্থ হলো সোনার তৈরী।

আর ক্রিস্টোফার কলম্বাস আর তার ছেলে পশ্চিম আফ্রিকানদের মতো ডিজানের হাতের রুমাল , আর স্পেনে মরিস মুসলিমদের মতো কাপড়চোপড় আদিবাসীদের পরে থাকতে দেখতে পান ।

১৫১৩ সালে এক স্প্যানিশ নাবিক ভাস্কো নুমেজ ডে ভালবোয়া আমেরিকা এসেছিলেন , তিনি পানামার এসেছিলেন , সেখানে গিয়েও অধিবাসীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, আফ্রিকান কালো রঙের মানুষ পানামার পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করছে।

আমেরিকান ভূখণ্ডে মুসলিমদের উপস্থিতি সম্পর্কে সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রমানও পাওয়া যায় কলম্বাসের লিখায় ই। তিনি তার জার্নালে লিখেছিলেন
সোমবার, অক্টোবার ২১, ১৪৯২ সালে গিবার র কাছাকাছি, কিউবার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় খুব সুন্দর পাহাড়ের উপর একটা মসজিদ দেখতে পান।

হিংসাপরায়ণ ইউরোপিয়ানরা সব সময়ই বলে আসছে, ক্রিস্টোফার কলম্বাস ভুল দেখেছেন। তাদের মতে , কলম্বাস উপমা স্বরূপ বলেছেন , যে মসজিদ দেখেছেন।

এটা হাস্যকর যে ইউরোপীয়ানরা কলম্বাসের জার্নালের সব কিছুই বিশ্বাস করে শুধু এই অংশ বাদে। সম্প্রতিকালে অনেকে আবার বলে, কলম্বাস চিনতেন ই না মসজিদ দেখতে কিরকম ছিল । এইসব হিংসা পরায়ণদের জন্য জবাব হলো , কলম্বাস যেবছর স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করে অর্থাৎ ১৪৯২ সালে , সেই বছর ও গ্রানাডাতে ১৩৭ টি মসজিদ ছিল আর শুধু কর্ডোবা শহরেই এক সময় ৩০০০ মসজিদ ছিল, খৃস্টানরা দখল করে নেয়ার পরও অনেক বিখ্যাত মসজিদ রয়ে গেছে । পরবর্তীতে ওই মসজিদগুলো খ্রীষ্টান রাজা ভেঙে পুড়িয়ে ফেলে আর কিছু চার্চ বানায়। ওই সব মসজিদের মধ্যে ১০/১২ তা বিখ্যাত মসজিদ এখনো আছে, আর ওগুলোই স্পেনের ইতিহাসের সেরা স্থাপত্য।

সুতরাং , এ কথা বলা যে কলম্বাস মসজিদ চিনতেন ই না , হিংসাপরায়ণ হয়ে ইতিহাসকে বিকৃতিকে মনোভাবের প্রমান।

ইউরোপীয়ানদের পূর্বে মুসলমানদের আমেরিকা যাওয়া সম্পর্কে আরেক প্রমান দিচ্ছি , ইউরোপিয়ানরা অনেক সময় আমেরিকার আদিবাসীদের সাথে চুক্তি করতো। এই সব চুক্তির দলিল এখনো মার্কিন জাদুঘরগুলুতে পাওয়া যায়, সম্প্রতি আমেরিকার ন্যাশনাল আর্কাইভ ৩০০ টির মতো দলিল ডিজিটাললি স্ক্যান করেছে।

এইসব চুক্তি নামায় , এক মজার বিষয় উঠে আসে, অনেক চুক্তি নামার কাগজের উপরে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটা প্রমান করে যে , আমেরিকার অধিবাসীরা ইসলাম করা গ্রহণ শুরু করেছে ইউরোপীয়ানদের আগমনের অনেক আগে থেকে।

হারনান কর্টেজ এর মেসো-আমেরিকা জয় করার ইতিহাস লেখক বার্নাল দিয়াজ ডেল কাস্টিলো লিখেছেন ,
আমেরিকার আদিবাসী মহিলারা অনেকে মুসলিম মরিস মহিলাদের মতো শরীর ঢেকে কাপড় পরে।
অনাহুয়াক (এখন যেটা টেক্সাস আর মেক্সিকো ) এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কর্টেজ ৪০০ টি মসজিদ দেখতে পান। এটা ছিল ১৫১৯-১৫২১ সালের কাহিনী।

ইন্টারেষ্টিং সাইড নোট হচ্ছে , ক্যালিফোর্নিয়া নাম টিও মুসলিমদের কাছ থেকে নেয়া।
স্পেনের সেভিল শহর যেটা ৫০০ বছর ধরে মুসলিম শহর আর এটা উম্মায়িদ খেলাফতের প্রাণকেন্দ ছিল। খলিফা কে ইউরোপীয়ানরা ক্যালিপ Calif /ক্যালিফ বলতো। ১৫১০ সালে সেভিলে এক বিখ্যাত রোমান্টিক উপন্যাস প্রকাশ হয়, Las Sargas De Esplandian এস্প্লানদিয়ানের এডভেঞ্চার শিরোনামে। সেখানে রাজা কে ক্যালিফ Calif আর রানীকে Califia বলা হতো। এই উপন্যাসে এক কাল্পনিক দ্বীপের উর্ল্লেখ রয়েছে ক্যালিফর্নিয়া। Calif >Califia >আইল্যান্ড অফ California >California
এখান থেকেই ক্যালিফোর্নিয়ার নামকরণ করা হয় ১৫৩৫ সালে।

পরবর্তীতে মুসলিমদের আমেরিকায় টিকে থাকার সংগ্রাম , দক্ষিণ আমেরিকায় বিভিন্ন বিপ্লবে মুসলিমদের অবদানের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

মানসা আবু বকরের আমেরিকা অভিযান নিয়ে বাংলা ডকুমেন্টারী: https://youtu.be/fg2Vz4rpVHQ
© মোহাম্মদ জুলফিকার রিজন

Bibliography:
Díaz del Castillo, Bernal (1963) [1632]. The Conquest of New Spain.
Thomas, Hugh (1993). Conquest: Montezuma, Cortes, and the Fall of Old Mexico
Ruth Putnam. California: The Name. University of California Publications in History, 4, No. 4 (1917).
Al-Umari , Masalik al Absar fi Mamalik el-Amsar, Translation by Gaudefroy-Demombynes, Paris, Paul Geuthner, 1927

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *