লােভে পাপ পাপে মৃত্যু- জানুন সত্য ঘটনা

আতিয়া ফাইরুজ; ৯ মার্চ ২০২১

হযরত ঈসা (আঃ) এর সময়কার একটি ঘটনা। হযরত ঈসা (আঃ) একবার কোথাও সফরে যাচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি এসে হযরত ঈসা (আঃ) কে বললেন, “হে আল্লাহর নবী আপনি যদি আমাকে অনুমতি দেন তাহলে আমিও আপনার সঙ্গী হব।” হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে অনুমতি দিলেন। লােকটি তার সঙ্গে পথ চলল। পথ চলতে চলতে তারা একটি নহরের কাছে গিয়ে পৌঁছালেন। নহরের নিকট তারা নাস্তা খেতে বসলেন।

হযরত ঈসা (আঃ) -এর কাছে তিনটি রুটি ছিল। তা থেকে দুই জনে দুইটি রুটি খেলে আর একটি রুটি বেচে গেল। নাস্তা খাওয়া শেষ হলে হযরত ঈসা (আঃ) পানি পান করার জন্য নহরে গেলেন। পানি পান করে নিজের স্থানে এলেন। কিন্তু গন্তব্যে এসে সেই উদ্বৃত্ত রুটিটি পেলেন না।ঈসা (আঃ) লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, “রুটিটি কোথায়?”

লােকটি উত্তর দিলো “আমি জানিনা।”

তারপর হযরত ঈসা (আঃ) পুনরায় রওয়ানা হলেন। লােকটি তার সঙ্গে চলতে লাগল। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা দুটি বাচ্চাসহ একটি হরিণ দেখতে পেলেন। হযরত ঈসা (আঃ) বাচ্চা সহ হরিণটিকে ডাক দিলেন। তার ডাক শুনে হরিণটি বাচ্চাসহ উপস্থিত হল। হযরত ঈসা (আঃ) একটি বাচ্চাকে জবাই করে তা ভুনা করলেন। এরপর ভুনা করা হরিণ নিজে খেলেন এবং সঙ্গীকেও খাওয়ালেন।

খাওয়া শেষ হওয়ার পর হযরত ঈসা (আঃ) হরিণকে উদ্দেশ্য করে বললেন , “হে হরিণ ! তুমি আল্লাহ পাকের হুকুমে জীবিত হয়ে আমার সামনে এসে দাড়াও।”

সঙ্গে সঙ্গে হরিণটি জীবিত হয়ে আমার সামনে এসে দাড়াল। এবার হযরত ঈসা (আঃ) লােকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, “যে আল্লাহ তােমাকে এই মুযিজা দেখালেন সেই আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি তুমি সত্যি করে বলো সেই রুটিটি কে নিয়েছে।”

সে পূর্বের মতই জবাব দিলাে, “এই বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।”

অতঃপর তারা সামনে অগ্রসর হলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা একটি বালুকাময় স্থানে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সেখানে গিয়ে হযরত ঈসা (আঃ) কিছু বালু জড়ো করলেন। এরপর জড়াে করা বালুগুলােকে স্বর্ণে রুপান্তরিত হতে হুকুম করলেন। সাথে সাথে বালুগুলি স্বর্ণে পরিণত হয়ে গেল। হযরত ঈসা (আঃ) ঐ স্বর্ণগুলােকে তিন ভাগ করলেন। আর বললেন “এক ভাগ আমার, এক ভাগ তােমার, অবশিষ্ট এক ভাগ যে রুটি চুরি করেছে তার।”

লােকটি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, “হে আল্লাহর নবী! আসলে রুটিটি আমিই চুরি করেছি।” লােকটির মুখে এই কথা শুনার পর হযরত ঈসা (আঃ) সব স্বর্ণ লােকটিকে দিয়ে তার সঙ্গ ত্যাগ করে চলে গেলেন। হযরত ঈসা (আঃ) চলে যাওযার পর লােকটি খুশিতে আটখানা হয়ে বলতে লাগল- “বিনা শ্রমে এতাে স্বর্ণ লাভ করেছি। আহ! কি মজা। আহ! কি মজা।”

অতঃপর সে ঐ স্বর্ণগুলিকে নিয়ে পুটলি বাঁধল। পুটলি নিয়ে বাড়ীতে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিল। এমন সময় সেখানে দুইজন দস্যু এসে উপস্থিত হল। দস্যুদ্বয় লােকটিকে হত্যা করে তার স্বর্ণ নেওয়ার চেষ্টা করল। পরে আলােচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হল, ঐ স্বর্ণ তিনজনেই সমান সমান ভাগ করে নিবে। ইতিমধ্যে তাদেরই ক্ষুধা পেল। তাই খাবার কিনে আনার জন্য তাদের মধ্য থেকে একজনকে পার্শ্ববর্তী বাজারে পাঠানো হলো।

সে পথে পথে ভাবল, “এখন আমি ইচ্ছা করলে ঐ দু’জনকে হত্যা করে একাই সবগুলো স্বর্ণের মালিক হতে পারি। যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ। লােকটি বাজার থেকে খাবার সংগ্রহ করল। অতঃপর এতে বিষ মিশিয়ে তাদের কাছে রওনা হল। অন্যদিকে স্বর্ণের কাছে থেকে যাওয়া দুই ব্যক্তি পরামর্শ করল। ঐ ব্যক্তিকে এই স্বর্ণের অংশীদার বানানোর দরকার কি ? আমরা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করে আমরা দুজনেই তাে এই স্বর্ণ বন্টন করে নিতে পারি।

লােকটি বাজার থেকে খাবার নিয়ে তাদের নিকট আসল। পরামর্শ অনুযায়ী তারা উভয়ে একত্রে লােকটির উপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে ফেলল। এবার তারা মনে মনে বেশ খুশি হল। মনে মনে বলতে লাগলো- “আহ! কি চমৎকার। কৌশলে একজন অংশীদার কমানাে হল।” এরপর তারা ঐ স্বর্ণ বন্টন করে নিল। যার যার বন্টন আলাদা আলাদা রাখল।

অতঃপর ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য নিশ্চিন্তে আহার করার জন্য বসল। কিন্তু প্রথম গ্রাস গলধঃকরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র বিষক্রিয়া শুরু হয়ে ঘটনা স্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তাদের লাশ আর স্বর্ণ সেখানেই পড়ে রইল। হযরত ঈসা (আঃ) সফর শেষে সে পথ ধরেই ফিরছিলেন। ঘটনাস্থলে এসে তিনি এই দৃশ্য দেখে সহচরবৃন্দকে বললেন দেখো, এটাই দুনিয়া। কথায় আছে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। লােভ – লালসার কারণেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ স্বর্ণের মালিক কেউই হতে পারল না।

আমরা কখনো দুনিয়ার লােভে পরে কারাে সম্পদ হরণ করব না। কেননা দুনিয়ার জীবন হলো ক্ষণস্থায়ী। আর আখেরাতের জীবন হলো চিরস্থায়ী। চিরস্থায়ী জীবনে সুখময় থাকতে হলে আমাদের এই দুনিয়ায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করে চলতে হবে। তাহলে আমরা পাব পরকালে সুখ আর পরম শান্তি।

রেফারেন্সঃ মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস,(২০০৪)। গল্পে গল্পে উপদেশ; ইসলামী গল্প সিরিজ (৩)। বাংলাবাজার,ঢাকা; নাদিয়াতুল কুরআন প্রকাশনী।

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *