বীজগনিতের জনক মূসা আল খোয়ারিজমির জীবনী ও অবদান

আতিয়া ফাইরুজ ; ২২ জুলাই, ২০২১

মধ্যযুগে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে আল খোয়ারিজমি একজন অন্যতম ও সেরা একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছিলেন। তার সবচেয়ে বড় পরিচয়টি হল তিনি আধুনিক বীজগণিতের জনক। যদিও তিনি বীজগণিতের জনক কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ের অনেকের কাছেই তার নামটি অজানা। এটাও আমরা জানিনা যে, বীজগণিতের জনক হচ্ছে একজন মুসলিম গণিতবিদ। আজকের নিবন্ধে আমরা জানব এই বিখ্যাত মুসলিম গনিতবিদের জীবনী ও অবদান সম্পর্কে।

খোয়ারিজমি কে ছিলেন?

আল খোয়ারিজমি একাধারে একজন গণিতজ্ঞ, ভৌগোলিক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী। পার্টিগনিতে তিনিই প্রথম দশমিক ও শূন্য’র বিস্তৃত ব্যবহার শুরু করেন।  এছাড়াও তিনি জ্যোতির্বিদ্যা, সূর্যঘড়ি, বর্ষপঞ্জি, ম্যাগনিফাইং গ্লাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেছেন ইসলামের স্বর্ণযুগের এই মনিষীর রচিত গ্রন্থগুলো এখনো আমাদের নতুন নতুন আলোর সন্ধান দিতে পারে।

আল খোয়ারিজমির জীবনী

আল-খোয়ারিজমীর পুরো নাম হলো আবু মোহাম্মদ ইবনে মূসা আল খোয়ারিজমি। সোভিয়েত রাশিয়ার আরব সাগরের পতিত আমু দরিয়া নদীর দ্বীপে নিকটে অবস্থিত খোয়ারিজম নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই শহরটির নাম ছিল উরগেঞ্চ যা প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র ছিল। তার জন্ম-তারিখ, শৈশব এবং কৈশোর সমন্ধে তেমন কিছুই জানা যায়নি। আনুমান করা হয় যে, ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আল খোয়ারিজমি খলিফা আল মানসুরের বায়তুল হিকমা সংলগ্ন গ্রন্থাগারে গ্রন্থগারিকের চাকরি করতেন। খলিফা মামুনের মৃত্যুর পরে জীবিত ছিলেন ও পরবর্তীকালে আল ওয়াথিকের শাসনকালেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পাটিগনিত, বীজগনিত, ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যামিতিতেও বিশেষ ভুমিকা রাখেন। তবে মূলত বীজগনিতের জন্যই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন।

তার আরেকটি নাম মোহাম্মদ ইবনে মূসা আল-খোয়ারিজমি আল কুতরুবুল্লী। এ নামটি দেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আল-তাবারী। তার এই কুতরুবুল্লী বিশেষণ এটাও নির্দেশ করে যে তিনি হয়তো বাগদাদের নিকটবর্তী ক্ষুদ্রতম শহর কুতরুবুল থেকে এসেছিলেন। আল তাবারী তাকে ‘আল-মাজুশী’ উপাধি দিয়েছেন। এ উপাধি অনেকে মনে করেন যে, তিনি হয়তোবা প্রাচীন জজথ্রুস্টের মতবাদের অনুসারী ছিলেন।

তার “আল জাবর ওয়াল মুকাবলা” বই থেকে জানা যায় যে, তিনি একজন একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন। সুতরাং এ থেকে বুঝা যায় যে হয়তো তার পূর্বপুরুষ বা তিনি কৈশোরে জর্জ থ্রুস্টের মতবাদের বিশ্বাসী ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আল খোয়ারিজমি চাকরি করেন বাগদাদে খলিফা মামুনের লাইব্রেরীতে। সেখানেই তিনি বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।

অসীম ধৈর্য সহকারে অধ্যায়ন করে তিনি বিজ্ঞানের যাবতীয় বিষয়ে সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেন। আল খোয়ারিজমি বিশেষ অবদানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে তিনি ছিলেন একজন জগৎবিখ্যাত গণিতবিদ। তার সময়ের গনিতের জ্ঞানকে তিনি এক অভাবনীয় সমৃদ্ধতর পর্যায়ে নিয়ে যান। একজন গনিতবিদ  হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বিদও। ভৌগোল বিষয়ে তার প্রজ্ঞা উৎকর্ষতাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন অ্যালজেবরার জনক। তিনি প্রথম আল জাবর ওয়াল মুকাবলা বইয়ে এ শব্দটি উল্লেখ করেন।

আধুনিক প্রযুক্তিতে আল খোয়ারিজমিঃ

আধুনিক প্রযুক্তি অনেকটা দাড়িয়ে আছে অ্যালগরিদমের উপর। অ্যালগরিদম হচ্ছে সংখ্যার কতগুলি সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক ধাপের সমষ্টি। কম্পিউটার, স্মার্টফোন, রোবট ইত্যাদি এই ধাপগুলোর মাধ্যমে কাজ করে। আমাদের অতি প্রয়োজনীয় ইন্টারনেটও চলে অ্যালগরিদমের কারবারে। এমনকি ফেসবুক, টুইটার ইউটিউব ইত্যাদিও চলে অনেক জটিল জটিল অ্যালগরিদমে।

অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে মধ্যযুগের মনিষী আল খোয়ারিজমির নামের ল্যাটিন শব্দ অলগরিদমো (Algorithmo) থেকে। তিনিই প্রথম অ্যালগরিদম নিয়ে নানাবিধ গবেষণা করেন। বর্তমান অ্যালগরিদমের যে রূপ তার অনেকটাই পূর্ণতা পেয়েছে প্রায় ১২০০ বছরেরও আগে করা আল খোয়ারিজমির গবেষণার ফলে।

খোয়ারিজমির রচিত গ্রন্থ আল জাবর ওয়াল মুকাবলা ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হতো। তিনি প্রথম রৈখিক (Linear) এবং দ্বিঘাত (Quadratic) সমীকরনের পদ্ধতিগত সমাধান করেন। তিনিই সর্বপ্রথম বীজগণিতকে একটি স্বাধীন শাখা হিসেবে প্রকাশ ধরেন।  আলজেবরা শব্দটি এসেছে তার বিখ্যাত বই “আল জাবর ওয়াল মুকাবলা” বই এর নাম থেকে। তাই খোয়ারিজমিকে বীজগণিতের জনক বলা হয়।

আল খোয়ারিজমির রচিত বই

তিনি অনেক বই লিখেছেন যেগুলো অধিকাংশ ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আবার অনেকগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

আল জাবর ওয়াল মুকাবলা

এই বইটি তার সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত। এই বইটি পাঁচ খন্ডে বিভক্ত। বইটি ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয় দ্বাদশ শতকে। অনুবাদকর্মের মধ্য দিয়ে এই নতুন বিজ্ঞান পশ্চিমা জগতে প্রবেশের সুযোগ পায়। এর আগে ইউরোপের কাছে বীজগনিত ছিল একটি অচেনা বিষয়। ইউরোপীয়রা এ বিষয়ে ছিল পুরোপুরি অজ্ঞ। দশম শতাব্দীর ইউসুফ রচিত মাফাহাতুল উলন গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

কিতাবুল সুরত আল আরত

এটি ভূগোল বিষয়ক বই। এটি পৃথিবীর আকার সম্বন্ধীয় একটি বই। তার এই গ্রন্থটি মূলত ভূগোল সম্বন্ধীয় আলোচনা নিয়ে রচিত। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয় এবং অনুবাদকর্মের সাথে মানচিত্রগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কিতাব আল-জামওয়াল তাফরিক-বিল হিসাব আল হিন্দ

এই বইটি ল্যাটিন ভাষায় অনূবাদ করা হয়েছে। এই বইটি আবরিতে আর পাওয়া যায় না।

ইস্তিখেরাজ তারিখ আল-ইয়াহুদ 

এই বইটি তিনি লিখেছিলেন ইয়াহুদী পঞ্জিকা নিয়ে। কিতাব আল তারিখ এই মূল্যবান বইটি থেকে বর্তমানে আমরা বঞ্চিত। এটি আর পাওয়া যায় না। এটি সাধারণ দিনলিপির উপর লিখিত।

কিতাব আল রোখমাত

এটি সূর্যঘড়ির উপর লিখিত একটি বই। এটি থেকেও আমরা বঞ্চিত কেননা এই বইটিও আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

আল খোয়ারিজমির অবদান

পাটিগনিতের ক্ষেত্রে তার অবদান

পাটিগনিত বিষয়ে তিনি একটি বই রচনা করেন যা পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। খ্রিষ্টীয় ৬ষ্ঠ শতকে হিন্দু গণিতবিদগণ দশমিক পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিলেন এবং এ পদ্ধতিটিকে খোয়ারিজমিই প্রথম ইসলামি জগতে নিয়ে আসেন। তার রচিত “The Book of Addition and Subtraction According to the Hindu Calculation” তারই একটি বিশেষ উদাহরণ।

বীজগনিতে তার অবদান

তার হাতে গনিতের এ শাখাটি পরবর্তী সময়ে আরও উৎকর্ষতা লাভ করে। বর্তমান যুগ পর্যন্ত গণিতবিদ্যার যে উন্নয়নের ফলে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যে উন্নতি এ আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে আল খোয়ারিজমির উদ্ভাবিত গনিতবিষয়ক নীতিমালারই কারণে। আমরা যখন কোন সমীকরণ সমাধান করি তখন x অথবা y এর একটি করে মান পেয়ে থাকি যা একঘাত সমীকরণ নামে পরিচিত।

আবার দ্বিঘাত সমীকরণের দুটি মান পাওয়া যায়, এই দুই ধরনের সমীকরণের বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখা তুলে ধরেন আল খোয়ারিজমি। আর অ্যালজেবরা আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে এর উপযোগীতা অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যায়। মধ্যযুগের আর কোনো গণিতবিদই গনিতজগতে তার সমান্তরাল কর্ম উপস্থাপন করে যেতে পারেননি।

গনিতে শূন্যের ব্যবহার

গনিতে যে অসম্পূর্ণতা ছিল তা পূরণ করেছিলেন আল খোয়ারিজমি। তার গনিতের বিষয়ে উপস্থাপন ছিল অসাধারণ ও অন্যান্য আরবীয়রা ভারতীয় নিকট থেকে সংখ্যালিখন পদ্ধতি শিক্ষা লাভ করেন। মুসলমান বৈজ্ঞানিকেরা নিজেরা এটিকে সংশোধন করেন। খোয়ারিজমি এই শূন্য লিখন প্রনালীকে সর্বশেষ রূপ দান করেন। ইউরোপীয়রা মুক্তকন্ঠে একথা স্বীকার করেন এই শূন্য ব্যবহার করার ফলে গনিত এসে দাড়ালো পরিপূর্ণ প্রেক্ষিতে। এখানেই থামলেন না, তার মগজে ঝড় বয়ে গেল এক অসাধারন বিপ্লব।

ভগ্নাংশ পদ্ধতি আবিষ্কার

ভারতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার সময়ে তিনি আবিষ্কার করেন ভগ্নাংশের বিষ্ময়কর দিক।তার এই কাজগুলো পরিচিত ছিল আরব্যকর্ম হিসেবে। তার কর্ম অবদান গুলো পৌঁছে গেল ইউরোপে। ইউরোপীয়রা দ্রুত তার বই ও লেখাগুলো অনুবাদ করে নেন। সেই সাথে তিনি ইউরোপেও বিখ্যাত হয়ে যান। তিনি দশমিক ব্যবস্থাকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে চাইলেন, এক্ষেত্রে তার অবদান প্রশংসনীয়।

ত্রিকোণমিতিতে অবদান

গণিতের একটি শাখা হলো ত্রিকোণমিতি। সমকোণী ত্রিভুজের তিন কোন ও বাহু নিয়ে আলোচনা করা হয় ত্রিকোণমিতিতে। ত্রিকোণমিতির বিস্তারিত উপাত্ত উদ্ভাবন করেন আল খোয়ারিজমি। তিনি কনিক সেকশনে গনিতিক ধরনকে ও ক্যালকুলাসের উন্নয়ন ঘটিয়ে এর আধুনিকায়ন করেন। তিনি গবেষণা করেন ক্যালকুলাস নিয়ে। ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাস হচ্ছে ক্যালকুলাসেরই একটি শাখা যা নিয়ে তিনি কাজ করেছিলেন।

জ্যামিতিতে তার অবদান

তিনি সর্বপ্রথম বীজগণিতের সমীকরণগুলোর জ্যামিতিক সমাধান নির্ণয় করেন। তিনি জ্যামিতির ক্ষেত্রে আয়ত, বর্গ, ত্রিভুজ প্রভৃতি জ্যামিতিক ক্ষেত্রগুলোর যে ধারণা দিয়েছেন তা হুবহু আজও একই রকম রয়েছে।

জ্যোতির্বিদ্যায় তার অবদান

জ্যোতির্বিদ্যায় তিনি দিয়ে গেছেন নতুন কিছু ধারণা এবং এক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। আল খোয়ারিজমি জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি তালিকা প্রনয়ণ করেন। তার এই তালিকাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল, এতে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপক্রম-মণিকা যোগ করতেন। জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে এ উপক্রমণিকাই তার প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্যর স্বাক্ষর।এছাড়া তার দুই খানা বই রয়েছে এ বিষয়ে।

প্রথম গ্রন্থে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক যন্ত্রপাতির নির্মাণ কৌশল আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রন্থে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কিভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক পাঠ নিতে হয় সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলো অনুবাদ করা হয় ইউরোপীয় ভাষায়। পরে এগুলো চীনা ভাষাতেও অনুবাদ করা হয়। “সিদ্ধান্ত” হচ্ছে জ্যোতিশাস্ত্রের উপর রচিত ভারতীয়দের একটি বই যা তিনি আবরিতে অনুবাদ করেন।

অনুবাদকর্মে তার অবদান

আল খোয়ারিজমি গ্রিক ও ভারতীয়দের বইগুলো আরবীতেও অনুবাদ করেন। তিনি টলেমির বইগুলো ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের উপর একটি বই অনুবাদ করেন।

ভূগোল শাস্ত্রে তার অবদান

আল খোয়ারিজমি টলেমি সূচিত অনেক ভৌগোলিক ধারণার সংশোধন করেন। তিনি টলেমির মানচিত্র পর্যন্ত সংশোধন করেন এবং একটি মানচিত্র সংযুক্ত করেন। ইউরোপীয়রা এতে মুগ্ধ হন। আল খোয়ারিজমি টলেমির দ্রাঘিমা ও অক্ষরেখা গ্রহন করেন এবং মুসলিম দেশগুলোর বিবরণ পেশ করেন।

আল খোয়ারিজমির উদ্যোগে দুনিয়ার একটি বাস্তব রূপ তৈরি করা হয়েছিল পরবর্তীতে যা পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কনে ব্যবহার করা হয়। আল খোয়ারিজমিই সর্বপ্রথম পৃথিবীকে সপ্ত মন্ডলে বা সাত ভাগে ভাগ করেন। এই সূত্র ধরেই আবহাওয়া পরিমন্ডল অনুসারে পৃথিবীকে সাতটি মহাদেশে ভাগ করেন তিনি।

সম্ভবত এ মহান বৈজ্ঞানিক ৮৪৭ বা ৮৪০ খৃষ্টাব্দের দিকে মৃত্যুমুখে পতিত হন।খলিফা মামুনের মৃত্যুর পরও তিনি এক যুগের অধিক জীবিত ছিলেন। বিজ্ঞানে মৌলিক অবদানের জন্য আল খোয়ারিজমি চির স্মরণীয় হয়ে আছেন মানবসভ্যতার মাঝে।

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *