গীর্জায় পরিণত হয়েছে যেসকল দেশের উসমানীয় যুগের ইমারত

শামীম আনোয়ার; ১৮ জুলাই,২০২১

ইউরোপীয়ান দেশগুলোর ঐতিহ্যের বিশাল একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে দেশগুলোর উপাসনালয়গুলো। খ্রীস্টান প্রধান দেশ হওয়ায় গীর্জাগুলোই তাদের প্রধান উপাসনালয়। শুধু ইউরোপিয়ান দেশই নয়, বিভিন্ন দেশের গীর্জাগুলো ঐতিহ্যের পাশাপাশি নানান ইতিহাসও বহন করে। বিশেষত অনেক গীর্জা-ই এখন হয়ত গীর্জা হিসেবে আমাদের সামনে হয়ত দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু এগুলোর অনেকই আগে ছিল মসজিদ, মাদ্রাসা, টাওয়ার কিংবা অন্য ইমারত!

১৮টি দেশে উসমানীয় আমলে নির্মিত ৩২৯টি মুসলিম ইমারতকে গীর্জা ও ঘন্টা টাওয়ারে পরিণত করা হয়েছে। এসব ইমারতের মাঝে ছিল মসজিদ, ছোট মসজিদ, মাদ্রাসা, সমাধি,ফোয়ারাসহ আর অনেক কিছু। আর দেশগুলোর মধ্যে আছে আলজেরিয়া,ইউক্রেন, ক্রিমিয়া, বসনিয়া, সাইপ্রাস, জর্জিয়া,আরমেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসাভো,রোমানিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, সার্বিয়া, গ্রীস প্রভৃতি। নিম্নে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হল–

★ বুলগেরিয়াতে ১১৭ টি মসজিদ, ৮টি মাদ্রাসা ও ৩টি ঘড়ি টাওয়ার কে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।

★ক্রোয়েশিয়ায় ৮টি মসজিদ ও১টি টাওয়ার কে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।

★ক্রিমিয়ায় ৬টি মসজিদ ও ১টি সমাধিকে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।
★কসাভোতে ১টি মসজিদ ও ১টি ঘড়ির টাওয়ার কে গীর্জায় এবং ঘন্টার টাওয়ারে পরিণত করা হয়েছে।

★ইউক্রেনে ২টি মসজিদ কে গীর্জায় ও ১টি মিনারকে ঘন্টার টাওয়ারে পরিণত করা হয়েছে।

★মেসিডোনিয়ায় ৩টি মসজিদ, ২টি সমাধি, ২টি ঘড়ির টাওয়ার কে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।

★সার্বিয়ায় ১৫টি মসজিদ ও ২টি সমাধিকে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।
★জর্জিয়া ও আজারবাইজান এ রাশিয়ার আক্রমণের সময়, ২ দেশের ২টি মসজিদ কে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।

★বসনিয়া-হার্জগোভিনায় অস্ট্রিয়ার আক্রমণের সময় ৩টি মসজিদ কে গীর্জায় পরিণত করা হয়।

★আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের আগ্রাসনের সময় ৩টি মসজিদ কে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।

★আরমেনিয়ায় ২টি মসজিদ কে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।

★সাইপ্রাস এ ১টি ফোয়ারা,মলদোভায় ৪টি মসজিদ ও রোমানিয়ায় ৫টি মসজিদকে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে।

★হাংগেরিতে অস্ট্রিয়ার আক্রমণের সময় ২৩ টি মসজিদ,৫টি সমাধি,১টি মাদ্রাসা কে গীর্জায় পরিণত করা হয়।

★গ্রীস ৭৬ টি মসজিদ, ১৯টি সমাধি ও ১টি মিনার কে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রীসে ৫টি মিনারকে ঘন্টার টাওয়ারে পরিণত করা হয়েছে। আরো ১০১ টি উসমানীয় ইমারতকে পরিবর্তন করা হয়েছে।

★সোফিয়া তে ১৮৭৮ সালের ১ রাতেই ডিনামাইট দিয়ে ৭টি মিনার উড়িয়ে দেওয়া হয়।

এগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল – মোহাম্মদ পাশা মসজিদ, সোফিয়া, বুলগেরিয়া,স্থপতি :মিমাম্র সিনান।ইব্রাহিম পাশা মসজিদ, গ্রীস।ইলদিরিম বায়েজিদ মসজিদ, গ্রীস।আলি পাশা মসজিদ, হাংগেরি।

গবেষক বলেন,খ্রিস্টানরা মসজিদ এর গম্বুজ ও খিলানগুলো ধ্বংস করে মুসলিম স্থাপত্যের নাম নিশানা মুছে ফেলতে চেয়েছিল।কিন্তু তারা ইমারতের কিবলার দিকের দেওয়াল ভাংচুর করতে পারেনি,যার ফলে ইমারতগুলো দেখলেই বুঝা যায় যে এক সময় এগুলোতে নামাজ পড়া হত।মসজিদের পাশাপাশি মাদ্রাসা, সমাধি,মিনার,টাওয়ার, হাম্মামখানা,ফোয়ারা ও গোডাউন ও পরিবর্তন করা হয়েছে।

গবেষক : মোহাম্মদ এমিন ইলমাজ

প্রতিষ্ঠাতা: The Turkish Architectural Research Centre.
প্রকাশিতব্য বই: Turkish Works Converted into Churches.
লেখক ২০১০ থেকে ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশ ঘুরে তাঁর এই গবেষণা বইটি লিখেছেন ।

(লেখাটি ডেইলি সাবাহ থেকে অনুবাদ করা)

লেখকঃ Shamim Anwar

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *