মুসলিম বিশ্বে প্রথম নৌবাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যিনি, এবং যেভাবে গড়ে উঠে ১টি দুর্দান্ত মুসলিম নৌবাহিনী

মু’আবিয়া… আবদুর রহমান- কুনিয়াত বা পিতৃবাচক উপনাম। পিতার নাম আবু সুফিয়ান। আবু সুফিয়ান কুরায়শদের মধ্যে বিশিষ্ট খানদানের অধিকারী ছিলেন। কুরায়শ বংশের ঝাণ্ডা তাঁর কাছেই রক্ষিত ছিলো। আবু সুফিয়ান ও তাঁর স্ত্রী হিন্দা মক্কা বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত ইসলামের ঘোর শত্রু ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও মুসলমানদের উৎপীড়নে উভয়ই অগ্রণী ছিলেন। ইসলামের মূলােৎপাটন করতে এরা কোনাে চেষ্টারই ত্রুটি করেননি। মক্কা বিজয়ের দিন আবু সুফিয়ান, হিন্দা ও মু’আবিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলমান হওয়ার আগে আবু সুফিয়ান ইসলামের ঘোর বিরুদ্ধাচরণ করলেও মুআবিয়া বিশেষ কোনাে বৈরিত পোষণ করতেন না। মক্কা বিজয়ের পূর্বে বদর, উহুদ প্রভৃতি কোনাে বড় যুদ্ধেই তিনি কুরায়শদের পক্ষাবলম্বন করেননি। কোনাে কোনাে ঐতিহাসিকের মতে, মুআবিয়া হুদায়বিয়ার সন্ধির পর গােপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতেন না। মক্কা বিজয়ের পর তিনি প্রকাশ্যে মুসলমান হন। কথিত আছে, মুআবিয়ার ইসলাম গ্রহণের খবর শুনে রসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁকে মুবারকবাদ জানান। মুসলমান হওয়ার পর সর্বপ্রথম তিনি হুনায়ন ও তাইফের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করেন। অতঃপর রসুলুল্লাহ (সঃ) তাঁর ওপর ‘ওহী’ লেখার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। আমীর মুআবিয়ার বীরত্ব প্রদর্শনের সুযােগ ঘটে প্রথম হযরত আবু বক্‌র সিদ্দীক (রাঃ)-এর খিলাফত আমলে। তিনি তখন সিরিয়া অভিযানে ভ্রাতা ইয়াযীদ ইবন সুফিয়ানের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছিলেন। ইয়াযীদ ইব্‌ন সুফিয়ান তখন সিরীয় বাহিনীর প্রধান সেনানায়ক ছিলেন।

সিরিয়া অভিযানে মুআবিয়া বড় বড় কীর্তি প্রদর্শন করেন। রােমান বাহিনীর সাথে লড়াই করতে তিনি আমোদ অনুভব করতেন। সিরিয়ায় রােমকদের বিরুদ্ধে প্রায় সবগুলো যুদ্ধেই তিনি বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। সিরিয়া বিজয়ের পর মুআবিয়ার ভ্রাতা ইয়াযীদ ইবন আবী সুফিয়ান সিরিয়ার গবর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে হযরত উমর (রাঃ) গভীর শোকাভিভূত হন। কেননা, ইয়াযীদ ইবন্ আবী সুফিয়ান সৈন্য সংগঠন ও রাজ্য শাসনে অতিশয় দক্ষ ছিলেন।

মুসলমানদের নৌ-বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা

হযরত উমর (রাঃ) এরপর মুআবিয়া (রা) কে সিরিয়ার গভর্নর নিয়োগ করেন। কারণ, মুআবিয়া ছিলেন সরেস অন্তরের সুপুরুষ। রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও অমিত সাহসিকতার জন্য হযরত উমর (রাঃ) তাঁকে ‘ কিরা- ই- আরব ’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। হযরত উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মুআবিয়া চার বছর কাল সিরিয়ার গবর্নর ছিলেন। সিরিয়ায় শান্তি- শৃংখলা, দেশ শাসন ব্যবস্থা ও সৈন্য- বিন্যাসে তিনি এক আদর্শ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। মু’আবিয়া গােড়াতেই রােমান বাহিনীর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ছিলেন। সিরিয়ায় রোমান স্থলবাহিনী ও নৌবাহিনী দুই- ই পাশাপাশি অবস্থান করতাে। সিরিয়ার উপকূল অঞ্চলে তাই রােমের স্থলবাহিনী ও নৌবহরের যুগল সমাবেশ ঘটেছিলো। মু’আবিয়া স্থলযুদ্ধে রোমানদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে সক্ষম ছিলেন। আর ওইসব যুদ্ধে তিনি সর্বদা সফলকামও হতেন। কিন্তু নৌবহরের কোনাে জবাব তাঁর কাছে ছিলো না। মুসলমানদের নৌবাহিনী না থাকায় তারা সিরিয়ার উপকূল অঞ্চল রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। রােমান নৌবহর এসে বারংবার উপকুল ভাগে হামলা করে থাকে। আমীর মু’আবিয়া এসব ঘটনা স্বচক্ষে অবলােকন করছিলেন। তাঁর অন্তর মুসলিম নৌবহর প্রতিষ্ঠাকল্পে অস্থির হয়ে উঠেছিলাে। কেননা, তিনি পাল্লায় পড়েছিলেন রোমান যুদ্ধবাজদের। আর একটি শক্তিমান নৌবহর ছাড়া রােমকদের সম্পূর্ণ পরাজিত করা কিছুতেই সম্ভবপর ছিলো না। ঘটনার এই প্রেক্ষাপটে আমীর মুআবিয়া হযরত উমর (রাঃ)-এর নিকট এই মর্মে এক দরখাস্ত পেশ করেন যে, রোমানদের যথােচিত মুকাবিলা করার জন্য মুসলিম নৌবহর গঠন করা আবশ্যক। হযরত উমর (রাঃ) তখন মু’আবিয়াকে নৌবহর গঠনে হাত দিতে বারণ করেন। হযরত উমর (রাঃ) সে সময় মুসলিম নৌবহর গঠনকে উপযুক্ত বিবেচনা করেননি। তাঁর দৃষ্টিতে তখন নৌবহর প্রতিষ্ঠার চাইতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়েছিলো। কিন্তু আমীর মুআবিয়া এরপরও অধিক পীড়াপীড়ি করতে থাকলে হযরত উমর (রাঃ) এ ব্যাপারে অন্যান্য গভর্নরদের পরামর্শ চেয়ে পাঠান। তাঁরা তখনাে পর্যন্ত মুসলিম নৌবহর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়নি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। ফলে হযরত উমর (রঃ) মু’আবিয়ার আবেদন নাকচ করে দেন।

মুসলিম নৌবাহিনী গঠন

হযরত উমর (রাঃ) শাহাদতবরণ করলে হযরত উসমান (রাঃ) মুসলমানদের খলীফা নিযুক্ত হন। তাঁর খিলাফতকালেও আমীর মু’আবিয়া একইভাবে নৌবাহিনী গঠনের আবেদন পেশ করেন। হযরত উসমান (রাঃ) তার আবেদন মনজুর করেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে শর্ত আরােপ করেন যে, নৌবাহিনীতে লোক ভর্তির ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হতে হবে। কাউকেই এ ব্যাপারে জবরদস্তি করা চলবে না। অনুমতি পেয়ে আমীর মু’আবিয়া অতি দ্রুত মুসলিম নৌবহর গঠনে তৎপর হন এবং অনতিকালের মধ্যে একটি শক্তিশালী নৌবহর গঠন করে আটাশ হিজরীতে সাইপ্রাস আক্রমণ করেন। সাইপ্রাসবাসীরা টাল সামলাতে না পেরে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। সন্ধির শর্তগুলো ছিলাে নিম্নরূপঃ

১. মুসলমানদের বার্ষিক সাত হাজার স্বর্ণমুদ্রা কর দেয়া হবে। রোমকদেরও সমপরিমাণ অর্থ দান করা হবে। মুসলমানদের তাতে কোনাে আপত্তি থাকবে না।

২. সাইপ্রাস কারোদ্বারা অক্লান্ত হলে মুসলমানরা তার মুকাবিলার জিম্মাদার হবে না।

৩. মুসলমানরা রোম আক্রমণ করতে চাইলে সাইপ্রাস তাঁদের জন্যে পথ ছেড়ে দিবে। এই অঙ্গীকারের চার বছর পর বত্রিশ হিজরীতে সাইপ্রাস সন্ধির বরখেলাফ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে রোমকদের যুদ্ধ জাহাজ দিয়ে সাহায্য করে।

আমীর মুআবিয়া তেত্রিশ হিজরীতে পাঁচশ’রণপৌত বিশিষ্ট এক বিরাট নৌবহরসহ ভূমধ্যসাগরে অবতীর্ণ হন এবং সাইপ্রাসের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানেন। প্রথম দফায়ই সাইপ্রাস মুসলিম বাহিনীর করতলগত হয়। আমীর মুআবিয়া সাইপ্রাস দ্বীপে এগারাে হাযার মুসলমানকে পুনর্বাসিত করেন। তিউনিস, আলজিরিয়া ও মরক্কো- আফ্রিকার এইসব উপকূলীয় অঞ্চল রোম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। হযরত উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালে এইসব এলাকায় রাশি রাশি রোম সৈন্য নিহত হয়। এ কারণে রােমের কায়সার (কায়সার প্রাচীন রোম সম্রাটদের উপাধি) প্রতিশোধস্পৃহায় উন্মত্ত হয়ে উঠেন। কায়সর মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ ও হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার মানসে বিরাট সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ইতিপূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কায়সার কখনাে এতবড় সামরিক আয়ােজন গ্রহণ করেননি। রোমান রণপোতের সংখ্যা ছিলো ছয়শ। আমীর মুআবিয়াও তাঁর উপযুক্ত জবাব দান মানসে স্বীয় রণবহরসহ সামনে অগ্রসর হন। এমন সময় সমুদ্রে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। অগত্যা উভয় পক্ষই তখন একরাতের জন্যে আপসে সন্ধিবদ্ধ হন। উভয় পক্ষই যার যার মতো আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হন। পরদিন ভোরে রোমান বাহিনী যুদ্ধের জন্যে সর্বাত্মক প্রস্তুত হলো। মুসলিম বাহিনীও সামনে উপস্থিত হলো। রোমান বাহিনী হঠাৎ হামলা শুরু করলো। মুসলিম বাহিনীও চকিতে পাল্টা জবাব দিলো। উভয় তরফ থেকেই তরবারি চলতে লাগলাে। ঘোরতর যুদ্ধের ফলে সাগরের পানি রক্তে লাল হয়ে উঠলো। যুদ্ধস্থল থেকে উপকূল পর্যন্ত রক্তের ঢেউ খেলছিলাে। দুই তরফেরই বীর যােদ্ধারা কেটে কেটে সাগরে পড়ছিলাে। সাগরের পানি তাদের উছলে উছলে দূরে নিক্ষেপ করছিলাে। এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকলো। আমীর মুআবিয়া স্বীয় স্থির সংকল্প ও দৃঢ়তার সাথে সৈন্য পরিচালনা করতে লাগলেন। পরিশেষে রোমান বাহিনীর কদম দুলে উঠলো এবং রোমান নৌবাহিনী প্রধান লঙ্গর তুলে পলায়ন করলেন। রােমকদের নৌযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর আমীর মু’আবিয়া ভূমধ্যসাগরকে জঞ্জালমুক্ত করলেন। রােমকদের ধাওয়া করতে করতে কনস্টান্টিনােপল উপসাগরের শেষ সীমা পর্যন্ত পৌছে গেলেন। মােটের ওপর, পূর্ণ আটঘাট বেঁধেই আমীর মুআবিয়া রোমকদের মোকাবিলায় নেমেছিলেন। তিনি রোমকদের যেমন স্থলযুদ্ধে মার দিয়েছিলেন, তেমনি তাদের নৌযুদ্ধে ও পর্যুদস্ত করেছিলেন। এরপর আভ্যন্তরীণ কোন্দলের দরুন কিছুদিন মুসলমানদের বিজয়াভিযান মুলতবি থাকে। কিন্তু চুয়াল্লিশ হিজরীর দিকে এই কোন্দল স্তিমিত হওয়ার পর আমীর মু’আবিয়া পুনরায় তাঁর নৌতৎপরতা শুরু করেন। রোমানদের নৌ- মুকাবিলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আমীরুল বহরকে (বর্তমান সময়ের এডমিরাল শব্দটি এখান থেকেই এসেছে, বিস্তারিত আমাদের অন্য ১টি আর্টিকেলে আছে) পাঠাতে লাগলেন। তারা খুব সফলভাবেই রােমানদের মুকাবিলা করেন। হযরত খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ)-এর পুত্র আব্দুর রহমান কয়েকবার রােমকদের সার্থক মুকাবিলা করেন। বুসর ইবন আবী অর্ীি ভূমধ্যসাগরে মুসলিম নৌবহর রেস্ দিয়ে ফিরতেন। উনপঞ্চাশ হিজরীতে মালিক ইন হুবায়রী রোমানদের সাথে যখন- তখন যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। ফুযালা, খিরা জয় করে বিপুল মালে গনীমত হাসিল করেন। অনুরূপভাবে ইয়াযীদ ইব্‌ন শাজুরা রাহাবী বহুবার নৌ- হামলা চালিয়ে রােমান নৌশক্তিকে তছনছ করে দেন। আটচল্লিশ হিজরীতে উ ইবন আমির মিসরীয় বাহিনীর সাথে নৌযুদ্ধে লিপ্ত থাকেন। তাঁর এইসব সামরিক অভিযান ছিলাে নৌযুদ্ধের মহড়াস্বরূপ।

আমির মু’আবিয়া এইসব নৌ- মহড়ায় অতি আনন্দ বােধ করতেন। তাঁর মনস্কামনা ছিলাে মুসলিম নও জওয়ানদের নৌযুদ্ধে পারদর্শী করে তোলা। তাই আমীর মুআবিয়ার আমলে বিপুল সংখ্যক মুসলিম আমীরুল বহর সৃষ্টি হন এবং তাঁরাই রোমান শক্তিকে চিরতরে খতম করে দেন। আমীর মু’আবিয়া কনস্টান্টিনােপল আক্রমণ করেন। এই আক্র মণের জন্যে তিনি স্থল ও নৌবাহিনীকে সংগঠিত করেন। কনস্টান্টিনােপলের অত্যধিক গুরুত্ব ছিলাে। কারণ, কনস্টানটিনোেপল ছিলো পূর্ব ইউরােপের প্রাণকেন্দ্র। আমীর মুআবিয়া কনস্টাটিনােপল আক্রমণ করে খৃস্টান শক্তিসমূহ বিশেষ করে রোমানদের বিতাড়িত করতে কৃতসংকল্প ছিলেন। তদুপরি একটি মুসলিম নৌবহর গঠন করাও ছিলাে তাঁর ঐকান্তিক অভিলাষ। তাঁর এই অভিলাষের কারণেই ভূমধ্যসাগর মুসলিম নৌবহরের লীলাক্ষেত্রে পরিণত হলো। আমীর মুআবিয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিলো ভূমধ্যসাগরের সবগুলো দ্বীপ দখল করে সিরিয়া, আনাতােলিয়া ও মিসর পরিবেষ্টিত ভূমধ্যসাগরীয় উপকুলঞ্চলসমূহকে রোমানদের নৌ- হামলা থেকে চির নিরাপদ রাখা। ঊনপঞ্চাশ হিজরীতে আমীর মুআবিয়া সুফিয়ান ইবন আওফের নেতৃত্বে এক বিরাট বাহিনী প্রেরণ করেন। এই রণবহরটি ভূমধ্য সাগরের তরঙ্গের সাথে খেলতে খেলতে বসফোরাস প্রণালীতে প্রবেশ করে। কনস্টান্টিনােপল রোমানদের মস্তবড় সমরকেন্দ্র ছিলাে। তারা মুসলমান দের মুকাবিলা করলাে এবং তীব্রভাবেই করলো। ফলে মুসলমানদের পিছু হটতে হলো। কনস্টান্টিনােপল অজেয় থাকলাে। যা হােক, আমীর মুআ’বিয়ার আমলে মুসলমানদের বছরে অন্তত কয়েক দফা করে রোমানদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হতাে। এইসব যুদ্ধে মুসলমানরা অনেকগুলো দ্বীপ দখল করেন।

তিপ্পান্ন হিজরীতে আমীর মুআবিয়া আনাতােলিয়ার অদূরবর্তী রােডস দ্বীপ অধিকার করেন। এই দ্বীপটি সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিরতিশয় গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আমীর মুআবিয়া এটি দখল করে মুসলমানদের বসতি স্থাপন করেন। অনুরূপভাবে চুয়ান্ন হিজরীতে তিনি কনস্টাটিনােপলের সন্নিহিত ইরওয়াদ দ্বীপ দখল করে সেখানেও মুসলমানদের বসতি স্থাপন করেন। এই সময় সাকালিয়া দ্বীপেও মুসলমানরা হামলা করেন, কিন্তু তা বিজিত হয়নি। ষাট হিজরীতে আমীর মুআবিয়া ইনতিকাল করেন। তাঁর গােটা শাসনকাল হচ্ছে উনিশ বছর তিন মাস। তিনি মুসলিম নৌবহর গঠনের ক্ষেত্রে যে সংকল্প, দৃঢ়তা ও স্বাধীনচিত্তের পরিচয় দিয়েছেন, তা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তাঁর সংগঠিত নৌবাহিনীই অভিজ্ঞ রোমান নৌবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাভূত করেছিলো। তাঁর শাসন আমলেই মুসলিম নৌবহরের বিশেষ উৎকর্ষ সাধিত হয়। অত্যল্প কালের মধ্যেই মুসলিম নৌবহর সুবিখ্যাত রােমান নৌবহরকেও ছাড়িয়ে যায়। আমীর মুআবিয়া কেবল মুসলিম নৌবহরেরই প্রতিষ্ঠাতা নন, বরং জাহাজ নির্মাণেরও তিনিই সূচনা করেছিলেন। তিনি তাঁর শাসন  আমলে বেশ কটি জাহাজ নির্মাণ কারখানা স্থাপন করেন। সিরিয়া, ফিলিস্তীন ও মিসরের উপকূলে কারখানা নির্মাণ করেন। আমীর মুআবিয়া স্বতন্ত্র নৌ- বিভাগ কায়েম করে তার উন্নয়ন বিধান করেন। রণবহর, নৌসেনা, নৌ- সমরােপকরণ ও তার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা এই বিভাগেরই অধীন ছিলো।

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *