নির্ধারণ করা হলো এই বছরের ফিতরা!! ফিতরা কাদের উপর ওয়াজিব এবং কাদের উপর নয়??

প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরের জন্যও নির্ধারণ করা হয়েছে ফিতরার পরিমাণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে এই বছর সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করেছে ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২২০০ টাকা। এই ফিতরার পরিমাণ কেন এমন, কারা ফিতরা দিবেন, কাকেই বা দিবেন আর কীভাবেই বা দিবেন- এসব প্রশ্নের উত্তর জানাতেই এই পোস্ট।

মৌলিক প্রয়ােজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলিম নারী – পুরুষের উপর ‘সাদাকাতুল ফিতর’ ওয়াজিব। এরূপ সম্পত্তি বর্ধনশীল হওয়া জরুরী নয়।

কী কী দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়-

গম, গমের আটা, যব, যবের আটা, খেজুর ও কিসমিস দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায় ।

——গম বা গমের আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে গম অর্ধ সা’ (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং যব বা যবের আটা কিংবা খেজুর বা কিসমিস দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করলে এক সা’ (৩ কেজি ৩২৫ গ্রাম) দিতে হবে ।

এক্ষেত্রে আটার বাজার মূল্য ৭০ টাকা এবং গমের বাজার মূল্য ৭০ টাকা ধরে সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, যবের বাজার মূল্য ২৭০ টাকা, কিসমিসের বাজার মূল্য ১৫০০ টাকা, খেজুরের বাজার মূল্য ১৬৫০ টাকা এবং পনিরের বাজার মূল্য ২২০০ টাকা ধরে সর্বোচ্চ ফিতরা নিরধারণ করা হয়েছে।

কীভাবে আদায় করতে হবে-

-রুটি , চাউল বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা দিতে হলে মূল্য হিসেবে দিতে হবে। কিসমিস দিয়ে ফিতরা আদায় করলেও এক সা দিতে হবে। দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফি আদায় করা উত্তম। আর অন্য সময় মূল্য দিয়ে ফি আদায় করা উত্তম।

কখন দিতে হবে, কারা দিবেন এবং কারা দিবেন না-

সাদাকাতুল ফিতুর ওয়াজিব হওয়ার সময় ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিক হওয়ার পর। সুবহে সাদিকের পূর্বে কেউ মারা গেলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। সুবহে সাদিকের পর কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে কিংবা কেউ মুসলমান হলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। অনুরূপ কোন দরিদ্র ব্যক্তি সুবহে সাদিকের পূর্বে বিত্তশালী হলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। ধনী ব্যক্তি এর পূর্বে দরিদ্র হয়ে গেলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। ঈদুল ফিতরের দিনের পূর্বে ফিতরা আদায় করা জায়িয। ঈদুল ফিতরের দিন আদায় না করলেও পরে তা আদায় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হবার পূর্বে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। নিজের এবং নিজের নাবালিগ সন্তানের পক্ষ হতে সাদাকায়ে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। স্ত্রী এবং বালিগ সন্তানগণ ফিতরা নিজেরাই আদায় করবে। স্বামী এবং পিতার উপর তাদের ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। অবশ্য দিয়ে দিলে আদায় হয়ে যাবে। নিজ পরিবারভুক্ত নয় এমন লােকের পক্ষ থেকে তার অনুমতি ছাড়া ফিতরা দিলে আদায় হবে না। কোন ব্যক্তির উপর তার পিতামাতার এবং ছােট ভাইবোন ও নিকটাত্মীয়ের পক্ষ হতে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। এক ব্যক্তির ফিতরা এক মিসকীনকে দেওয়া উত্তম। তবে একাধিক মিসকীনকে দেওয়াও জায়িয। একদল লােকের উপর যে ফিতরা ওয়াজিব এক মিসকীনকে দেওয়াও জায়িয ।

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *