ইসলামে যেভাবে নিষিদ্ধ হল মদ

আতিয়া ফাইরুজ ; ১১ মার্চ,২০২১

প্রাক ইসলামী যুগে তথা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে সকল অপকর্মের সাথে মদ্যপান সংযুক্ত ছিল। আড্ডা, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা ভোজনের আসরে কোমল পানীয় হিসেবে সকলেই মদের গ্লাসে চুমুক দিত। হত্যা, ধর্ষণ, ব্যভিচার খুন – খারাপ, রাহাজানি, ডাকাতি ও নারী ভোগের মতো মদ্যপান ও ছিল তাদের নিত্য ঘটনা। মদ্যপান ব্যতীত তাদের ভাল মন্দ কোন আসরই জমজমাট হতো না। আসর একটু চাঙ্গা করতে হলে মদ থাকা অতীব প্রয়োজনীয় ছিল।

আরবের রেওয়াজ অনুসারে ইসলামের আবির্ভাবের পরেও তাদের মধ্যে মদ পানের প্রচলন দেখা যেত। তখনও মদ্যপান নিষিদ্ধ হয়নি। এই জন্য মুসলিম সমাজের লােকেরাও মদ্যপানে মত্ত থাকত। মদ্যপানে মাতাল হয়ে ইয়াহুদীদের পাশাপাশি মুসলিম সমাজের লােকেরাও বিভিন্ন সময়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হত। মহান আল্লাহ তায়ালা প্রথম ধাপেই মদকে হারাম ঘোষণা করেন নি।

তাহলে কেন ইসলামে মদপান হারাম কেন? -তিনটি কারণে আল্লাহ তায়ালা মদকে হারাম ঘোষণা করেছেন।

  • প্রথমত– ইসলামের প্রথম যুগে আব্দুর রহমান বিন আউফ একদা কতিপয় মুসলমানদের দাওয়াত করেছিলেন। খাওয়া – দাওয়া শেষে উপস্থিত সকলে প্রচুর মদ্যপান করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় নামাযের সময় হয়ে গেল। তখন সবাই হযরত আলী (রাঃ) কে ইমাম বানিয়ে নামাজ পড়লেন। কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) তখন ছিলেন দারুন নেশাগ্রস্ত। তিনি সূরা কাফিরুন পড়তে গিয়ে যে চার যায়গায় ‘লা’ রয়েছে তা বাদ দিয়ে সূরাটি পড়েন। ফলে অর্থে বিপরীত হয়ে যায়।
  • দ্বিতীয়ত– হযরত উতবা ইবনে মালিক (রাঃ) একদা কয়েকজন আনসার ও মুজাহিদদেরকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। খাওয়া শেষে সকলে মদ্যপানে মাতাল হয়ে আনসার ও মুজাহিদগণ পরস্পর বাহাদুরি প্রকাশ করতে লাগলেন। এক পর্যায়ে হযরত সাদ (রাঃ) বললেন, আনসারদের তুলনায় মুজাহিদরাই শ্রেষ্ঠ। একথায় উপস্থিত আনসার ও মুজাহিদদের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। অবশেষে রাসূল (সাঃ) এর নিকট এই সংবাদ পৌঁছায়।
  • তৃতীয়ত– রাসূল (সাঃ) মদীনায় আগমন করলে সর্বপ্রথম একদল সাহাবা মদের ব্যাপারে তার কাছে মদের বিধান জানতে চান। মহান আল্লাহ তায়ালা উপরােল্লিখিত তিনটি সমস্যার সমাধান করেন এবং জাতিকে অন্ধকার ও বর্বর সংস্কৃতি থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য মদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। এরপর থেকে ইসলামে মদ্যপান নিষিদ্ধ হয়ে যায়। মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ সাধনের প্রতি লক্ষ্য রেখে মদ সংরক্ষণ বেচা-কেনা এবং মদপান থেকে আমাদের সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

আমাদের সুশীল সমাজ সাধারণত এ সমস্ত অপকর্মের দিকে একটু বেশি আগ্রহী হয়ে পরে। বিশেষ করে সুশীল সমাজকে এ সমস্ত অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে হবে। যেহেতু ইসলাম সার্বজনীন শান্তির ধর্ম, সেহেতু ইসলামে নিষিদ্ধ এমন সব কিছু বর্জন করতে আমরা অবশ্যই প্রস্তুত থাকব। সংযম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা কাঙ্খিত ফল অর্জন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

রেফারেন্সঃ 

মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস,(২০০৪)। গল্পে গল্পে উপদেশ; ইসলামী গল্প সিরিজ (২)। বাংলাবাজার,ঢাকা; নাদিয়াতুল কুরআন প্রকাশনী।

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *