এক নজরে রাসূল (সা) এর পুরো পরিবার

রাসূল(সা.)-এর পরিবার

★নামঃ- মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দু মানাফ ইবনে কুসাই..।ডাক নামঃ- মুহাম্মাদ..।উপরে যে বিশাল নামটা পড়েছেন সেটা আমাদের পয়গম্বর “হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” এর পুরো নাম..। প্রথাগতভাবে আরবে সন্তানের মূল নামের শেষে বাবা অথবা দাদা,বড় দাদাদের নাম যোগ করা হয়..। আসুন জেনে নেই যাদের নামগুলো আমার নবীর পাশে দেওয়া তাদের সম্পর্কে..।

★কুসাইঃআসল নাম যাঈদ। কিন্তু পরে তিনি কুসাই নামেই পরিচিত হন। এই নামের অর্থ- ‘অনেক দূরে’। খুব অল্প বয়সে তিনি ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে তাকে এই নামে ডাকা হতো..।মক্কার কুরাইশ গোত্র একসময় দুর্বল ছিল। বিভক্ত ছিল। তিনি কুরাইশ গোত্রকে একত্র করেন। তাদের মর্জাদা প্রতিষ্ঠিত করেন। তখন থেকেই মক্কার ইতিহাসে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ(Key Figure)। যেহেতু তিনি ‘Key Figure’ তাকে নিয়ে আর একটু আলোচনা করা যাক। তার জন্ম মক্কাতে, তবে বড় হয়েছেন মক্কার বাইরে। দীর্ঘ সময় পর মক্কায় ফিরে “খুযা” গোত্রের এক মেয়ে কে বিয়ে করেন। তখন “খুযা” গোত্র কাবার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন “কুরাইশ” গোত্র এই মর্যাদা পাক এই দায়িত্ব পাক(কাবার দায়িত্ব)। এবং একসময় তিনি সফল হন “খুযা” গোত্রকে সরিয়ে মক্কার রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের হাতে(কুরাইশদের) নিয়ে আসে..।*[তিনি একা একা মক্কা শাসন করতে চাননি। তিনি ‘ফোরাম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যেখানে মক্কার সকল গোত্র প্রধানদের নিয়ে আলোচনায় বসতেন। নগর শাসন নিয়ে তদের থেকে মতবাদ ও পরামর্শ নিতেন।]*

★আব্দু মানাফঃআসল নাম মুগিরা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদার>দাদার>দাদা..। এই নামের অর্থ- ‘মানাফের দাস’। আরব মূর্তিপূজারীরা ইসলামের পূর্বে ‘মানাফ’ নামের এক মূর্তির পূজা করতো। (সংগত কারনেই এ নামের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই)কুসাইয়ের মৃত্যুর পর কাবার দখল কে নেবে এই নিয়ে দ্বন্দ্ব লাগে তার দুই ছেলে ‘আবদুদ দার ও আবদুদ মানাফের’ মাঝে। একপর্যায়ে তারা দায়িত্ব ভাগ করে নেয়। প্রতিরক্ষার জন্য সেনা প্রস্তুত ও কাবার চাবি রক্ষনের ভার নেন ‘আবদুদ দার’। আর হাজিদের খানাপিনার দায়িত্ব নেন ‘আবদুদ মানাফ’। পরে এই দায়িত্ব তিনি তার ছেলে হাশিমকে দেন।

★হাশিমঃআসল নাম আমর। হাজিদের সাহায্য সহযোগিতার কারনে তিনি হাশিম নামে পরিচিত হোন। এই নামের অর্থ- রুটি বিতরণকারী।গরিব দুঃখী আর হাজিদের রুটি খাওয়ানোর বিষয়টা তিনি বেশ সিরিয়াস ভাবেই নিয়েছিলেন। তিনি তাদের সেবায় সেরা উটের মাংস দিতেন। তার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না তারপরও নিজের পকেট থেকে তিনি খরচ করতেন।

★আব্দুল মুত্তালিবঃআসল নাম শাইবা। মক্কার লোকেরা তাকে দেখে মুত্তালিব নামে এক ব্যক্তির দাস মনে করেছিলেন। সেজন্য তারা তাকে ঐ নামে ডেকেছিল। এরপর থেকে তিনি ওই নামেই পরিচিত হন।আব্দুল মুত্তালিবের বাল্যকাল কাটে মদিনায়। তখন মদিনার নাম ছিলো ‘ইয়াসরিব’। তার মায়ের নাম সালমা। তিনি তাঁর উচ্চতা, সুদর্শন চেহারা আর স্বভাবজাত নেতৃত্বেগুনের কারনে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। একসময় তিনি গোত্রপ্রধান হন। মক্কার ইতিহাসে দুটো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তার সাথে সম্পর্কিত। যথা-১)যযম কূপ পুনরায় খুঁজে পাওয়া।২)হস্তীবর্ষ।“জুরহুম” গোত্র যমযম কূপকে ঢেকে ফেলেছিলেন। তারা ছিলো নবি ঈবরাহীম(আ.) পুত্র নবি ইসমাঈল(আ.)-এর মামার গোত্রের। মক্কাবাসীরা এই কূপের খোজ হারিয়ে ফেলেছিলেন। পানির উৎস খুজতে গিয়ে রাসূলের দাদা আবদুল মুত্তালিব এই কূপ পুনরায় খুজে পান।আর হস্তীবর্ষে’র ঘটনা আমাদের সকলেরই জানা। কিভাবে আল্লাহ ইয়েমেনের খৃষ্টান শাসক “আবরাহা’র” হাত থেকে “পাখি’র” মাধ্যমে “কাবা’কে” রক্ষা করেছিলেন।এই ছিলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামের পেছনের বিখ্যাত ও সাহসী পুরুষগণ যাদের কাছথেকে ছোটো থেকেই আমাদের রাসূল শিখেছিলেন অনেককিছু..।

রাসুলের পরিবারের নারী সদস্যগণঃ

★সালমাঃহাশিমের স্ত্রী। বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাদা আবদুল মুত্তালিবকে তিনিই বড় করেছেন..।

★বারা আবিদুল উয্যাঃরাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নানি। মা আমিনার মিতো বিশ্বাস্ত স্ত্রী ও মমতাময়ী মা গাড়ার কৃতিত্ব তার।

★ফাতিমা আমরঃরাসুলের দাদি। ছয় বছর বয়সে দাদার বড়িতে পালিত হওয়ার সময় তিনিই আমাদের রাসুলের দেখাশোনা করেন।[ধারণা করা হয় রাসুল তার দাদির নামেই তার কন্যা মা’ ফাতেমার নাম রাখেন]

★আমিনাঃতিনি মদিনাতে জন্মেছিলেন। রাসূলের বাবা আবদুল্লাহ’র মৃত্যুর সময় তার বয়স বড়জোড় বিশের কোঠার। চাইলে তিনি আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারতেন। সেটা না করে তিনি বিশেষ গুনের পরিচয় দিয়েছিলেন। এটি আজকের নারি সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।তার শাশুড়ি ফাতিমা আমরের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক ছিল যা তার স্বামীর মৃত্যুর পর ছেড়ে যায়নি..।

★আবদুল্লাহঃএইবার আসি আমাদের নবীর পিতা আবদুল্লাহ’র দিকে। তিনি বেশ সুদর্শন ছিলেন মা আমিনার সাথে তিনি সুখের সংসার বাধেন। তবে সেই সুখ বেশীদিন স্থায়ী হলো না। ফিলিস্তিন সফরের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। রাসূলের জন্মের আগেই সন্তানের মুখ না দেখেই তিনি বিদায় নিলেন। তিনি মারা জান মাত্র ২৫ বছর বয়সে..। এই ছিলো আমাদের নবীর খুব কাছের কিছু আপনজনদের পরিচয় যা আমদের অনেকেরই অজানা ছিলো ।

22

Share this post on..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *